শুক্লা সরকারের কারণে একটা টিআর কাবিখার অপব্যবহার হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন সাংসদ সেলিম ওসমান। তিনি বলেন, বন্দর উপজেলার সত্যিকারের কতজন গরীব মানুষ আছে তা তিনি বলতে পারেন। গত দুই বছরে শুক্লা সরকারের ব্যাপারে কেউ একটা অভিযোগ করেনি।
বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে শুক্লা সরকারের বিদায় সংবর্ধনাকালে ওই কথা বলেন তিনি। শুক্লা সরকারকে বন্দর উপজেলা থেকে মানিকগঞ্জে বদলি করা হয়েছে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিদায়ী নির্বাহী কর্মকর্তা শুক্লা সরকার এর হাতে সেলিম ওসমানের পক্ষ থেকে উপহার তুলে দেন তার সহধর্মিনী নাসরিন ওসমান। এছাড়াও ৫টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের পক্ষ থেকেও ইউএনও এর হাতে উপহার তুলে দেওয়া হয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বন্দর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান সহ ৫টি ইউনিয়নের পরিষদের চেয়ারম্যানরা শুক্লা সরকারের অতীত কর্মকান্ড তুলে ধরেন।
বন্দর উপজেলার চেয়ারম্যান এম.এ রশিদ এর সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিনী নাসরিন ওসমান।
আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গে সেলিম ওসমান বলেন, নির্বাচন আসছে। এই নির্বাচন চেয়ারম্যানদের মেম্বারদের। অনেকেই নির্বাচন করবেন। অতীতে কারা সাধারণ মানুষের পাশে ছিল এটা সাধারণ মানুষ জানে বুঝে। আপনাদের মাঝে যেন কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় সে দিকে খেয়াল রাখবেন।
তিনি বলেন, বন্দরের উন্নয়ন নিয়ে মানুষ শুনতে শুনতে এখন আর বিশ্বাস করেন। শীতলক্ষ্যা সেতুর কারনে মদনগঞ্জ-মদনপুর পর্যন্ত ৪ লেন রাস্তা হবে। তখন কিন্তু বন্দরের চেহারা পাল্টে যাবে। শান্তিরচর সেখানে এখন ভূমিদস্যু পাওয়া যায়। কিছুদিন আগে আমার কাছে একজন ধরা পড়ছে। খোঁজ নিয়ে জানলাম তাদেরকে একজন সরকারী কর্মকর্তা সহযোগীতা করেছিলো। ভবিষ্যতে জন্য সাবধান হয়ে যান। ভবিষ্যতে এমন কাজ কেউ করলে আমি ছাড় দিবো না। বন্দরে শান্তিরচর সম্পন্ন হলে বাংলাদেশের মধ্যে বন্দরের মত এমন আর কোনো উপজেলা হবেনা। রাস্তার পাশে জায়গাগুলো দখল করা হচ্ছে। সাংবাদিক ভাইয়ের এসকল বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।
তিনি আরও বলেন, রাজনীতিতে কোনদিন স্বরচিত কোনো ইতিহাস বলা যায়না। আজকাল অনেকে স্বরচিত ইতিহাস বলতে শুরু করেছে কারন সামনে নির্বাচন। আমার সাথে যারা কাজ করেছেন তাদের কাছে অনুরোধ রইলো কোনো শত্রুতা নয়। আমি শত্রুর সাথে আলিঙ্গন করে বেঁচে আছি। সকলের কাছে অনুরোধ রইলো বন্দরে যেন কোনো শত্রুতা সৃষ্টি না হয়।
উপস্থিত ছিলেন, বন্দর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ সানু, নারী ভাইস চেয়ারম্যান সালিমা ইসলাম শান্তা, বন্দর উপজেলার নির্বার্হী কর্মকর্তা শুক্লা সরকার, সহকারী কমিশনার ভূমি আসলাম সুলতানা নাসরিন, বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা, বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজিম উদ্দিন প্রধান, মহানগর জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব ও ২৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আফজাল হোসেন, ২৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুদ্দিন আহম্মেদ দুলাল প্রধান, কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান, বন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন, মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন, মদনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম.এ সালাম, ধামগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুম আহম্মেদ, সাবেক কাউন্সিলর ইসরাত জাহান খান স্মৃতি, ইফাত জাহান মায়া প্রমূখ।
আপনার মতামত লিখুন :