NarayanganjToday

শিরোনাম

রূপগঞ্জে আহতদের সুচিকিৎসার নির্দেশ হাইকোর্টের


রূপগঞ্জে আহতদের সুচিকিৎসার নির্দেশ হাইকোর্টের

রূপগঞ্জে হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ৫২ জনের প্রাণহানির ঘটনা পর্যবেক্ষণে রাখছেন হাইকোর্ট। হাইকোর্ট বলেছেন, ‘হতাহতের ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। এটি সত্যিই মর্মান্তিক। আমরা এ ঘটনা পর্যবেক্ষণে রাখছি।’

একইসঙ্গে আদালত আহতদের তালিকা প্রকাশ করে তাদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বলেছেন। এ জন্য শ্রম সচিব এবং স্বাস্থ্য সচিবের সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেলকে কথা বলতে বলেছেন। একই সঙ্গে নিহতদের মরদেহ শনাক্তের পর ক্ষতিপূরণের বিষয়ে আবেদন করতে বলেছেন হাইকোর্ট।

১১ জুলাই এক রিট আবেদনের শুনানিতে হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের একক বেঞ্চ এমন মন্তব্য করেন।

আদালতে এদিন রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন, আইনজীবী জেড আই খান পান্না, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, ব্যারিস্টার অনিক আর হক, অ্যাডভোকেট মো. বদরুদ্দোজা বাবু, এস এম রেজাউল করিম, নীনা গোস্বামী ও মো. শাহিনুজ্জামান। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস।

আইনজীবীরা জানান, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুডসের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডকে দুঃখজনক উল্লেখ করে হাইকোর্ট বলেছেন, ‘সমস্ত জাতি এতে শোকাহত। আমরা এরকম মর্মান্তিক ঘটনা আশা করি না।’

শুনানির শুরুতেই মানবাধিকার কর্মী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, ‘এই অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে দায়িত্বে অবহেলা, হতাহতের জন্য ক্ষতিপূরণ এবং শিশু শ্রমিক থাকার বিষয়গুলো সামনে এনে হাইকোর্টের রুলসহ নির্দেশনা চাই।

তখন আদালত বলেন, ‘দুঃখজনক এই ঘটনায় ফৌজদারি মামলা হয়েছে। সে মামলায় প্রায় সবাই গ্রেফতারও হয়েছে। এখন তদন্ত হবে। এই ঘটনার ক্ষেত্রে মালিক পক্ষকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে।’

‘আর পত্রিকাতে তো দেখেছি যে, নিহতদের পরিবারকে দুই লাখ টাকা করে দেয়ার কথা বলা হয়েছে। আহতদেরও কিছু টাকা দেয়া হয়েছে। এখানে একটি বিষয় হচ্ছে যে, এখন পর্যন্ত ১টি মাত্র লাশ সনাক্ত হয়েছে। অন্যগুলো ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে সনাক্ত হতে ২১ দিন লাগবে। তাই লাশ সনাক্তের আগে আমরা কাকে কিভাবে ক্ষতিপূরণ দিতে বলব? তাই যারা রিট নিয়ে এসেছেন আপনাদের একটু অপেক্ষা করা দরকার বলে মনে করি।’

এ সময় ব্যারিস্টার সারা হোসেন আদালতকে বলেন, ‘মাই লর্ড। সরকার এখন যে টাকাটা দিচ্ছে সেটা অনুদানের মত, ওটাকে ক্ষতিপূরণ বলতে চাচ্ছি না।’

এ পর্যায়ে আদালত বলেন, ‘মর্মান্তিক ঘটনাটি নিয়ে দেশের মানুষ উদ্বিগ্ন, আপনারাও যে উদ্বিগ্ন সে বিষয়টি আমাদের নজরে রইল। আমরা বিষয়টি অবজারভ করছি। কিন্তু এখন এই কোর্টের (একক বেঞ্চের) তো কিছু লিমিটেশন আছে। এখন তো রুল দিতে পারব না। তাই নিয়মিত কোর্ট খুলুক। আশা করি ঈদের পর নিয়মিত কোর্ট খুললে আপনারা সার্বিক দিক নিয়ে আসতে পারবেন। আর এরমধ্যেই জরুরি হলে তো আসতেই পারবেন।’

এরপর রিটের পক্ষের আইনজীবীরা আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা নিশ্চিতের বিষয়টি আদালতের নজরে আনলে আদালত শ্রমিকদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বলেন।

এর আগে রূপগঞ্জের অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৫২ শ্রমিকের প্রত্যেকের পরিবারকে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়।

একইসঙ্গে আগুনের ঘটনায় আহতদের প্রত্যেককে ৩৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়। রিট আবেদনে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রুল জারির আরজি জানানো হয়েছে।

তবে আপাতত নিহত প্রত্যেক শ্রমিকের পরিবারকে ১০ লাখ এবং আহতদের পাঁচ লাখ টাকা করে দিতে অন্তর্র্বতীকালীন নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

শনিবার (১০ জুলাই) কয়েকটি মানবাধিকার ও আইনগত সহায়তাকারী সংগঠন মেইলের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্টার জেনারেল বরাবর রিট আবেদনটি করেন।

সংগঠনগুলো হলো—আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), বাংলাদেশ লিগ্যাল অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) এবং সেফটি অ্যান্ড রাইটস সোসাইটি।

রিটে বিবাদী করা হয়েছে—স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শ্রম মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, রাজধানী রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ডিরেক্টর জেনারেল, ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিপার্টমেন্ট অব ইন্সপেকশন ফর ফ্যাক্টরিজ অ্যান্ড এস্টাব্লিসমেন্ট), ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, রূপগঞ্জের ইউএনও, ওসি, হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও এমডিকে।

গত বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) বিকেলে রূপগঞ্জে হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রায় ৪৫ ঘণ্টা পর শনিবার (১০ জুলাই) বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।

অগ্নিকাণ্ডের পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ভবন থেকে ৪৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করে। এর আগে অগ্নিকাণ্ডের দিন তিনজন নিহত হন। সব মিলিয়ে ৫২ জনের মৃত্যু হয়।

উপরে