বিষয়:
প্রকাশিত: জুলাই ১০, ২০২১, ০৪:৪১ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জুলাই ১০, ২০২১, ১০:৪১ এএম
নারায়ণগঞ্জ টুডে
সর্বশেষ আপডেট : জুলাই ১০, ২০২১, ১০:৪১ এএম
নারায়ণগঞ্জ টুডে
রূপগঞ্জে সেজান জুস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ৫২ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এই ঘটনাকে ‘হত্যা’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। শনিবার (১০ জুলাই) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নে এই মন্তব্য করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এই ঘটনায় তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী বিচার হবে। এসময় দায়ের করা হত্যা মামলায় কারখানার মালিকসহ আটজনকে গ্রেফতারের করার কথাও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘একটা দুর্ঘটনা হয়েছে, একটা হত্যা হয়েছে, অনেকগুলো মানুষ মারা গেছে, মামলাতো হবেই। মামলা হবে তদন্ত হবে, যারা দোষী, যারা সামান্যতম এর সঙ্গে দোষী বা (যাদের) দায়ী করা হবে তাদের বিচার হবে।’
আটকদের প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মালিকসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। আমাদের পুলিশ বাহিনী মনে করে তাদের হয়তো সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। সেই জন্যই তারা আটজনকে আটক করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একসঙ্গে এতজন লোকের প্রাণহানিতে সারাদেশে স্ববিরতা বিরাজ করছে। প্রথমে দেখলাম তিনজন, পরবর্তীতে ৪৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস কিছু জীবিত ব্যক্তিদের উদ্ধার করেছে। হাসেম ফুড ফ্যাক্টরির কতজন লোক এখানে কাজ করছিল সেটা তদন্তে বের হয়ে আসবে। ডিসি ও মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। এই সব কিছুর পরেই আমরা বলতে পারব এখানে কেন এই ঘটনা ঘটেছে। যাই ঘটুক তা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও দুঃখজনক। যারা ইন্তেকাল করেছে তাদের রূহের মাগফেরাত কামনা করছি।’
‘যে কয়জন হাসপাতালে জীবিত আছেন আমরা মনে করি তারা সুস্থ হয়ে ফিরে আসবেন। আত্মীয়-স্বজনকে যেন আল্লাহ শোক সহ্য করতে দেয় এই কামনা করি। সরকারিভাবে যে সহযোগিতা ডিসি তাৎক্ষণিকভাবে করেছেন...তাদের দুঃখ লাঘবের জন্য যা যা করা দরকার আরও করা হবে’—যোগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।
তদন্তের শেষে আইন অনুযায়ী বিচার হবে মন্তব্য করে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘প্রথম কথা দেখুন আমাদের ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, ইউএনও, ডিসি তাৎক্ষণিকভাবে তারা এসেছেন। এসে তারা জীবিত উদ্ধারও করেছেন। তাদের যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে। আমি প্রথমেই বলেছি কারো যদি কোনো ত্রুটি থাকে...নির্মাণ ত্রুটি থাকতে পারে, শ্রমিকদের পরিচালনার ত্রুটি থাকতে পারে, সব কিছুই থাকতে পারে। এইগুলো তদন্তের আগে আমরা কিছুই বলছি না।’
গত ৮ জুলাই বিকেলে রূপগঞ্জে সেজান জুস কারখানায় অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ঘটনার প্রথম দিন তিনজনের মৃত্যু হয়। আহত হন অর্ধশত শ্রমিক। ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের ১৮টি ইউনিট ২০ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন প্রাথমিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর গত ৯ জুলাই সকালে ওই ভবনের চারতলা থেকে ২৬ নারীসহ ৪৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫২ জনে। ২৯ ঘণ্টা পর ৯ জুলাই রাতে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে আগুন।
আপনার মতামত লিখুন :