সোনারগাঁয়ে বকেয়া বেতনের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বিক্ষোভ ও অবরোধ করছেন সিনহা অ্যান্ড ওপেক্স গ্রুপের শ্রমিকেরা। বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে বিকেল পৌনে চারটা পর্যন্ত তারা দুই মহাসড়কের মাঝে ট্রাক, পিকআপ ভ্যান ও বিদ্যুতের খুঁটি ফেলে রাস্তা অবরোধ করে রাখে। এতে সড়কে কয়েকশ যানবাহন আটকে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আতিকুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ-অঞ্চল) মো. বিল্লাল হোসেন ও সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হাফিজুর রহমানসহ বিপুল সংখ্যক শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
এদিকে শ্রমিকদের অবরোধের কারণে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছিল বিভিন্ন পণ্যবাহী গাড়িসহ, ব্যক্তিগত গাড়ি। দীর্ঘ সাত ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে ওই বিক্ষোভ করে শ্রমিকেরা। পরে, পুলিশ মালিক পক্ষের সাথে আলোচনা করে বকেয়া বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিয়ে শ্রমিকদের বিকেল পৌনে চারটার দিকে সরিয়ে দিতে সক্ষমত হয়। তবে, এই সময়ের মধ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো উস্কানি না দেওয়াতে কোনো রকম সংঘাত, সংঘর্ষ ও ভাঙচুরে ঘটনা ঘটেনি বলে খবর পাওয়া গেছে।
অপরদিকে শ্রমিক বিক্ষোভ, অবরোধ নিয়ে সিনহা অ্যান্ড ওপেক্স গ্রুপের মালিক পক্ষের সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তারা সাংবাদিকদের সাথে কোনো রকম কথা বলতে রাজি হননি। এমনকী এই বিষয়ে ফোনেও কোনো বক্তব্য দিতে তারা রাজি হয়নি।
এদিকে, বিক্ষোভ চলাকালে শ্রমিকেরা সাংবাদিকদের প্রতিও চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তারা ছবি, ভিডিও করতে সাংবাদিকদের বাধা দেন বলে স্থানীয় সাংবাদিক সূত্রে জানা গেছে। তাদের বক্তব্য, সাংবাদিকেরা মালিক পক্ষের হয়ে কাজ করতে মাঠে এসেছে।
শ্রমিকরা জানান, এর আগেও তারা বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলন করেছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বেতন পরিশোধের আশ্বাস দেয়া হয়। পরে এ আশ্বাসের কোনো সমাধান হয় না। তাদের তিন মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। বেতন না পাওয়ায় বাড়িভাড়া, দোকানের বাকি, সংসার খরচসহ বিভিন্ন খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
তারা আরও অভিযোগ করেন, শ্রমিকদের অবসর সার্ভিসের টাকা, মাতৃত্বকালীন ছুটি, বাৎসরিক ছুটির টাকা, মৃত্যুজনিত এককালীন বীমার টাকা পরিশোধ করা হচ্ছে না। এসব বিষয় নিয়ে শ্রমিকেরা মালিকপক্ষের লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা কারাখানা বন্ধ ঘোষণা করার ভয়ভীতি দেখায়। তারা আরও জানান, বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) শ্রমিকদের দাবি পূরণের কথা ছিল। আমরা কারখানার প্রধান ফটকে গিয়ে দেখি নোটিশে লেখা রয়েছে এক মাসের বেতন ও একটি বেতন বোনাস ছাড়া কিছুই দেওয়া হবে না। তাই আমরা মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে নেমেছি।
কাচঁপুর শিল্প পুলিশের ইনচার্জ নুরুল ইসলাম জানান, শ্রমিকদের দাবি নিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে পণ্যবাহী যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।
সোনারগাঁ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আতিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, কাঁচপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভের তারণে ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। মালিক পক্ষের সাথে প্রশাসন কথা বলেছে। তারা অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছে। পরে শ্রমিকদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে যান চলাচলসহ এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়ে
আপনার মতামত লিখুন :